মালয় থেকে সিংহপুরী- ড. সফিউদ্দিন আহমদ

শাকুর মজিদের চোখে মাহাথিরের মালয়েশিয়া

ড. সফিউদ্দিন আহমদ

আমার লেখা শুরু করছি আমি মালয় থেকে সিংহপুরী থেকে। এই গ্রন্থের প্রারম্ভিকে রয়েছে মালয়েশিয়ার প্রাণ পুরুষ মাহাথির মোহাম্মদের উক্তি দিয়ে

When I travel around, I look at things carefully; make comparisons of what I see. I don’t accept things at face value, you cannot trust what you hear or see.

I was also following something my mother taught me. When you are enjoying a real good meal, stop when the food is still good. So, I guess it’s good for me to stop now,”

– Mahathir Mohamad

আধুনিক মালয়েশিয়ার মহান স্থপতি মাহাথির মোহাম্মদ। তার সমস্ত পরিকল্পনা ছিলো সুদূরপ্রসারী। এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার জন্য আজকের আধুনিক মালয়েশিয়া। এ প্রসঙ্গে লেখক শাকুর মজিদ বলেছেন 

এটা যে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি বিমানবন্দর, বুঝতে বাকি থাকে না। ১৯৯৮ সালে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করে বানানো হয় এই নতুন বিমানবন্দর। কুয়ালালামপুরের পুরোনো সুবাং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি তাদের ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাতে পারবে না এমন ধারণা হয়েছিলো সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের। যে কারণে শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের জায়গাটিতে ১৯৯০ সালেই নতুন বিমানবন্দর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যদিও মাহাথিরের এই সিদ্ধান্ত অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছিলো সে সময়, তথাপিও পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরটি সুখ্যাতি কুড়িয়েছে অনেক। ২০০৬ ও ২০০৭ সালে দেড়কোটি থেকে আড়াই কোটি যাত্রী পরিবহন করা বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে বিমানবন্দরটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিমানবন্দর হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে।

আমি প্রথমেই বলেছি শাকুর মজিদের বর্ণনা সত্যিই হৃদয়গ্রাহী ও অর্ন্তস্পর্শী। এ বর্ণনা শুধু চোখ দিয়ে দেখার নয় হৃদয় ও মন দিয়ে অনুভব করার। এখানে আরো উলে­খ্য যে, শাকুর মজিদের বর্ণনা আমাদের যেমন প্রশান্তিতে ভরে দেয় তেমনি কোনো কোনো বর্ণনা হৃদয়কে ভারাক্রান্তও করে। এই গ্রন্থের ‘ইতিহাসের শিরোণাম’ লেখায় তিনি অবতারণা করেছেন টুইন টাওয়ার প্রসঙ্গটি। সপরিবারে শাকুর ওঠেছেন কুয়ালালামপুরের প্রিন্স হোটেলে। তার বর্ণনায়-

আমরা শহর দেখতে দেখতে কুয়ালালামপুরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলকার প্রিন্স হোটেলে এসে আশ্রয় নিই। হোটেলটি দেখে পরিবারের লোকজনের খুব ফুর্তি। বড় রুম পেয়ে ইবন নাচানাচি শুরু করে দেয়। ঘরের জানলায় পর্দা সরাতেই চোখে পড়ে টুইন টাওয়ার। টুইন টাওয়ার নামটি মনে করলে যে ভবন দুটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে তা এখন শুধু চোখ বন্ধ করে আর ছবিতে দেখা যায়। একজন আর্কিটেক্ট হিসেবে শুধু নয়, মানুষ হিসেবেও আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংসের দৃশ্য আমার হৃদয়কে আন্দোলিত করেছিলো প্রচণ্ডভাবে। জানালার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হয় কিছুটা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছিলাম কিন্তু ঘোর কাটলো ইবনের সতর্কসংকেতে। এই দুরন্ত অভিযাত্রী আর এক মুহূর্তও ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকতে রাজি নয়। তার কথা হলো, ‘আমরা জানালার সামনে দাঁড়িয়ে টুইন টাওয়ার দেখতে নিশ্চয়ই মালয়েশিয়া আসিনি।’ ঝটপট বললাম, ‘অবশ্যই না’ এবং এক মুহূর্ত দেরি না করে পরিজনদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ি ইতিহাসের শহর কুয়ালালামপুর দেখতে।

মারদেকা চত্বর কুয়াললামপুরের একটি দর্শনীয় স্থান এবং শাকুরেরও ঐ দেশে প্রথম দর্শনীয় স্থান।

শাকুর মজিদ একজন নন্দিত স্থপতি। যেখানে সেখানেই তার চোখ পড়ে যায় স্থাপত্য নান্দনিকে। এবং তিনি খুঁজেন এই নান্দনিক স্থাপত্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, নৃতত্ত¡ ও পুরাতত্ত¡। তার এই খোঁজা ও দেখার মর্তে যেমন থাকে চোখের দৃষ্টি তেমনি থাকে তার হৃদয়ানুভ‚তি ও অর্ন্তদৃষ্টি। এবার শাকুর মজিদ তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন দৃষ্টিনন্দন মারদেকা চত্বরে। প্রথমেই তিনি          বলেছেন-

এ শহরটি দেখার জন্য প্রথম বিকেলটাতে আমরা বেছে নিই তাদের মারদেকা চত্বরকে। বিশাল মাঠের চারপাশে বেশ কিছু ভিক্টোরিয়ান রীতির দালানকোঠা। একপাশে চৈনিক রীতির কিছু ভবন। দেড়শ বছরের ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহরটির সূচনাতে চীনাদের প্রভাব ছিলো এটি ঐতিহাসিক সত্য।

শাকুর মজিদের লেখা বা ভ্রমণকাহিনি যা লিখেন সর্বত্রই একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও আলোচনা করেছেন। এছাড়াও বরাবরই তিনি নিজের দেশকে সামনে রেখে অন্যদেশকে দেখেছেন। তার এই দেশানুরাগের জন্য তাকে আমাদের কাছে শ্রদ্ধান্বিত করে তুলেছে।

আমরা যেমন গর্বভরে বলে থাকি আমাদের পরিচয় শহিদ মিনারে, অপরাজেয় বাংলার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে তেমনি মালয়েশিয়াদের স্পর্দ্ধিত গর্ব ও গৌরব তাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ তুগু নেগারা নিয়ে। শাকুর মজিদ তুগুনেগারাকে আমাদের কাছে অতীব আকর্ষণীয় বর্ণনায় উপস্থাপন করেছেন। এ বর্ণনা হৃদয়গ্রাহী ও প্রেরণাদায়ী। শাকুরের বর্ণনায়

উঁচু পাহাড়ের উপর মালয়েশিয়ার সবচে সম্মানিত স্থাপনা তুগু নেগারা। ‘তুগু’ মানে সৌধ, ‘নেগারা’ মানে জাতীয়। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার জরুরি অবস্থার সময়ে নিহত ১১ হাজার বীর সৈনিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৬৬ সালে সৌধটি বানানো হয়। এর এক পাশেই ৫০ ফুট উঁচু পিতলের মূর্তি। মালয়েশিয়ার পতাকা হাতে সৈন্যরা। নেতৃত্ব, পীড়ন, ঐক্য, পর্যবেক্ষণ, শক্তি, সাহস আর ত্যাগের প্রতীক হিসেবে এসেছে এসব ভাস্কর্য। এখানে আছে সাতজন যোদ্ধার মূর্তি। তাদের কেউ ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন যুদ্ধ করতে এসে, কেউ শক্ত হাতে অস্ত্র ধরে আছেন শত্র“র মোকাবেলায়, আবার কেউ বা বিজয়ের পতাকা হাতে। একজন গাইড আমাদের জানান, মালয়েশিয়ার প্রতিটি মানুষ তাদের জীবনের কোনো একটি সময়ে এই বীরযোদ্ধাদের স্মৃতিবাহী সৌধটি দেখতে আসেন।

মালয়েশিয়ার উলে­খ্য ও আলোচিত দর্শনীয় বস্তু হচ্ছে বাতুগুহা। এই গুহা আবিষ্কার এবং এই গুহা সত্যি সত্যিই মানুষের মনে এক বিস্ময় এবং এক বিমুগ্ধ আবেগ ও আবেশ সৃষ্টি করেছে। এই বাতুগুহা হিন্দুদের কাছে অতীব পবিত্র স্থান হিসেবে পূজিত। একমাসে মালয়েশিয়ার হিন্দুধর্ম ও হিন্দুসংস্কৃতির যে খুব প্রভাব ছিলো গুহাটি এরই প্রমাণ বহন করে। তাছাড়া মালয়েশিয়ার মানুষের নামকরণেও এর একটি পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন সুকর্ম, সুহার্ত মেঘবতী, কার্তিকে, পুত্রজয়া প্রভৃতি। তাছাড়া মালয়েশিয়ার রয়েছে রামায়ণ ও মহাভারতের অনেক কাহিনি।

আগেই উলে­খ করা হয়েছে বাতুগুহাকে হিন্দুরা অতীব পবিত্র গুহা এবং ভগবানের আশীর্বাদ গুহা মনে করে। এ প্রসঙ্গে শাকুর মজিদ বলেছেন-

মন্দির চত্বরে ঢুকতেই দেখা মেলে মহর্ষি শিবরামা নিয়ামের মূর্তি। হঠাৎ করে দেখলে মনে হবে সোনা দিয়ে ল্যাপ্টে দেয়া আছে এ মূর্তির বাইরের আবরণ। আমাদের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের-

‘দাও ফিরে মোরে অরন্য লহ এ নগর’

কবির এ আর্তনাদ অরণ্যবোদনেই পরিণত হয়েছে। আমাদের রাজধানী একদিন ছিলো সবুজের শহর। সবুজের শহরে আজ আর সতেজ সবুজ আমাদের চোখে প্রশান্তির প্রলেপ বুলিয়ে দেয় না। এখানে মানুষের মনপ্রাণও আসা ইটের পাজরে লোহার খাঁচায় গাঁথা।

এরই তুলনায় শাকুর মজিদ বর্ণনা দিয়েছেন বাগানের শহর ‘পুত্রজয়া’র। সমস্ত পুত্রজয়া যেন একটি বাগানের শহর। যতদূর তাকানো যায় বাগান আর বাগান। শাকুর মজিদ বলেছেন-

মরুভূমির মতোই ছিলো জলজংলায় ভরা অঞ্চলটি। পাম আর নারিকেলের ক্ষেত ছিলো এই অঞ্চলে। তা কেটে ছেটে গড়ে তোলা হয়েছে নতুন এই স্যাটেলাইট শহর। মানুষের বসবাসের উপযোগী করতে তাতে ১৩টি বিশেষ রকমের বাগানের বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে এখানে। পুত্রজায়া শহরের মটো হচ্ছে ‘বান্দার রায়া তামান, বান্দার রায়া বোস্তারি’, মানে ‘বাগানের শহর আর চৌকস শহর।’

শাকুর মজিদের ভ্রমণকাহিনিকে যারা শুধু নিছক ভ্রমণকাহিনি বা শুধু বিনোদনের জন্য পড়বেন এমন নয়। তিনি ভ্রমণকাহিনিতে অভিযোজন করেছেন ঐদেশের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা, সাহিত্য ও দর্শণ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং একই সাথে নৃ-তত্ত¡ ও পুরাতত্ত¡, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য। এছাড়াও তিনি সেদেশে রাজা বা শাসকদের উত্থান-পতন ও রাজকীয় ইতিহাস।

মালয়েশিয়ার সর্প মন্দিরের বর্ণনায় শাকুর মজিদ অনন্য শৈল্পিক কুশলতার পরিচয় দিয়েছেন। তার বর্ণনায়Ñ

আমাদের ট্যাক্সিওয়ালা নিয়ে আসে বায়ান লেপাস এলাকার এক সর্পমন্দিরে। মন্দিরটির স্থাপত্য একটু অন্যরকমই। সর্পমন্দির বলে কথা।

সে কারণেই হয়তো মন্দিরটির ডিজাইনের মধ্যে ফণা উঁচিয়ে থাকা সাপের আদলটি প্রায় সব জায়গায়। শুধু মন্দিরের বাইরের আদলেই নয়, মন্দির চত্বরে গড়ে ওঠা স্যুভেনির শপগুলোর জিনিসপত্রের মধ্যেও দেখি শুধু সাপ আর সাপ।

সাপকে দেব হিসেবে পূজা করার ইতিহাস, হাজার বছরের পুরোনো। হিন্দু, বর্মী আর সিয়ামিজরা সাপ আরাধনা করাকে পুণ্য বলে মনে করে।

পেনাং-এ বসবাসকারী ব্রিটিশ কর্মকর্তা ডেভিড ব্রাউন ১৮৭৩ সালে এখানে মন্দিরটি বানানোর উদ্যোগ নেন। মূলত কাঠ দিয়ে বানানো দক্ষিণ চীনের মন্দিরগুলোর ডিজাইনের অনুকরণে এটি বানানো হয়।

এমন কথা শোনা যায় যে, এ মন্দিরটি বানানোর পর আশপাশের জঙ্গল থেকে অনেক সাপ এসে বাসা বাঁধতে থাকে। মন্দিরের আচার্য সেই সব সর্পকে এখানে থাকতে দিতেন। সাপগুলো যেন দর্শনার্থীদের জন্য বিপদজনক না হয়, সে কারণে মন্দির চত্বরটিকে সব সময় ধূমায়িত করে রাখার রেওয়াজ চালু হয়। মন্দিরে এখন সেরকম সাপ নেই। কিন্তু ধোঁয়া আছে।

শাকুর মজিদকে বরাবরই আকর্ষণ করে স্থাপত্যশৈলী, মন্দির, মসজিদ ও ধর্মীয় তীর্থস্থান। এবার তার আকর্ষণের বিষয় হচ্ছে ‘থাই বুদ্ধ মন্দির’। শাকুর মজিদ অনেক বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করেছেন।

অহিংসার দেবতা, শান্তির দেবতা, মানবতার দেবতা যিনি মানুষের দুঃখ নিবারণ ও জরা-গ্লানি থেকে মানুষকে পরিত্রাণের জন্য ঘর ছেড়েছিলেন এই মহান দেবতার অনেকগুলো মূর্তি আছে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে। শাকুর মজিদ একজন নন্দিত স্থপতি ক্রমেই তিনি মন্দিরগুলোর স্থাপত্য ও শৈল্পিক বিশ্লেষণ করেছেন। তাছাড়া রয়েছে কয়েকটি দেবীমূর্তি। এ সমস্ত মূর্তিতে রয়েছে চীন ও থাই কাঠামোর প্রভাব। মূল গেট দিয়ে ঢুকেই দেখা যাবে কারুমণ্ডিত দেবী মূর্তি। এক দেবী মূর্তির রয়েছে চারমাথা। শাকুর মজিদের ভাষায়Ñ

এরকম আরো কতগুলো বিশেষ ভঙিমার বিশাল আকারের বৌদ্ধ মূর্তি দেখেছিলাম বেশ ক’বছর আগে মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াংগুনে। শায়িত বৌদ্ধের মূর্তি, পদ্মাসনে বৌদ্ধের মূর্তি, দাঁড়ানো বৌদ্ধের মূর্তি। বৌদ্ধের প্রত্যেকটি ভঙ্গির দার্শনিক ব্যাখ্যা আছে তার প্রতিটি মূর্তিতে। এখানে আছে ১৮০ ফুট লম্বা গোল্ড প্লেটেড শায়িত বৌদ্ধের মূর্তি। বৌদ্ধ ডান পাশে শুয়ে আছেন, উত্তর দিকে ডান হাতের তালুর উপর তার মাথা। বা পায়ের উপর ডান পা রেখে ডান দিকে মোড় নিয়ে তার এই বিশেষ ভঙ্গিমার আসন। তার মুখে প্রশান্তির হাসি। বৌদ্ধের এই বিশেষ আসনটিকে মহাপ্রয়াণ বলা হয়। মৃত্যুর পর বৌদ্ধ নির্বাণে আছেন।

মূল বৌদ্ধমূর্তিটির পাশে আরো অনেক ছোট ছোট বৌদ্ধমূর্তি। সব ভিন্ন ভিন্ন আসনে। তার পেছনে অনেক ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধের ভস্ম রেখে দেয়া আছে।

আমি বহুবার বলেছি শাকুর মজিদ একজন নান্দনিক স্থপতি। তার স্থাপত্যকর্ম স্পন্দিত ও জীবন্ত হয়ে উঠে। এবার আমরা শাকুর মজিদের বর্ণনায় পেনাং মসজিদের সাথে পরিচিত হবো।

এখানে আরো একটি বিষয বিশেষভাবে উলে­খ্য, শাকুর যখন কোন স্থাপত্যের বর্ণনা দেন তখন তা কবিতা হয়ে ওঠে এবং নান্দনিকতার ও ভাবব্যঞ্জনার ঔজ্জ্বল্যে ভাস্বর হয়ে ওঠে।

শাকুরের আলোচনার মধ্যে থাকে একটি বিশাল ব্যাপ্তি, মহাকাব্যিক বিস্তার ভাবের গভীরতা ও অব্যক্ত ভবে ব্যঞ্জনা। আমি আরো বিস্মিত হই শাকুর মজিদের দেশ ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয় এবং শুধু ইতিহাস ও ঐতিহ্য নয় এবং শুধু সামাজিক ও লোকচরিত্র নয় শাকুর দুহাত উজার করে তার লেখায় আমাদের উপহার দেন অনেক অজানা তথ্য মহৎ কিছু সৃষ্টি করার মালমশলা ও উপকরণ।

মালয়েশিয়ার অনেক মিথ, রূপকথা, উপকথা, পুরাকাহিনিও পৌরানিক কাহিনি দু’হাতে লুফে নিয়ে আমাদের উপহার দিয়েছেন শাকুর মজিদ।

ড. সফিউদ্দিন আহমদ : লেখক, গবেষক ও অধ্যাপক। সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

Leave a Comment