মহাজনের নাও-আরিফুর রহমান স্বপন

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারন করে ওয়াশিংটন ডিসিস্থ সাংস্কৃতিক সংগঠন “একতারা”র এবারের পরিবেশনা “একতারা লোকজ উত্‍সব ২০১১” : প্রধান আকর্ষণ শাকুর মজিদের লেখা “মহাজনের নাও”

আরিফুর রহমান স্বপন, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে  

Mohajoner Naw
প্রকাশক- উৎস প্রকাশন, প্রচ্ছদ- মাসুম রহমান, প্রকাশ-২০১১

এই প্রবাসে, সাত সমুদ্র তেরো নদীর পাড়ের দেশ আমেরিকা’য় বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি চর্চাকারী একমাত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন “একতারা” হৃদয়ে লালন, হাসন, বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম সহ অগুনিত লোকজ, আদী আর পল্লী ধারার শিল্পী ও তাদের সৃষ্টি নিয়ে আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর শনিবার উপহার দিতে যাচ্ছে “একতারা লোকজ উত্‍সব  ২০১১”। আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে অভূতপূর্ব এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে- ওয়েস্ট স্প্রিংফিল্ড হাই স্কুলের অডিটরিয়মে। ঠিকানা- ৬১০০ রোলিং রোড, স্প্রিংফিল্ড, ভার্জিনিয়া, ২২১৫২। সময়- ঠিক সন্ধ্যে ০৬৩০টায়।

“একতারা”র মূল উদ্দেশ্য হল এই প্রবাসে বাংলাদেশের লোক সংস্কৃতিকে লালন, চর্চা, প্রচার ও তরুণ বাংলাদেশী আমেরিকান প্রজন্মকে এই ধারার সংগীতের প্রতি আগ্রহী ও একই সাথে তাদের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলা। এই লক্ষ্য ও দায়িত্তবোধকে সামনে রেখে “একতারা” গত প্রায় ১০ বছর থেকে লোক ভিত্তিক পরিবেশনা দর্শকদের মাঝে তুলে ধরছে। “একতারা”র পরিবেশনায় “সোনাই মাধব”, ২০০৪ সালে দর্শক প্রিয় “প্রবাসী ইত্যাদি” অনুষ্ঠানে “নকশী কাঁথার মাঠ”, ২০০৭ সালে জনপ্রিয় “একতারা” অনুষ্ঠানে বাউল সাধক হাসন রাজার জীবনী সহ বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির বিবর্তনের ইতিহাস উপস্থাপন করা হয়। অতিসম্প্রতি, ২০১০ সালে হৃদয় ছোয়া “বায়োস্কোপ” আয়োজনের মধ্যে দিয়ে “একতারা” মেট্রো ওয়াশিংটনের দর্শক হৃদয় জয় করে অকুণ্ঠ ভালোবাসা কুড়িয়েছে। বায়োস্কোপে দর্শকপ্রিয় লোক কাহিনী “আলী বাবা ও চল্লিশ চোর” ছাড়াও বাংলাদেশের চলচিত্রের বিবর্তনের ইতিহাস মঞ্চস্থ হয়।

প্রবাসে লোক সংস্কৃতি চর্চা ছাড়াও, সামাজিক দায়িত্ত থেকে “একতারা” সংগঠন হিসেবে  সবসময় স্থানীয, জাতীয় ভিত্তিক ও বাংলাদেশ কেন্দ্রিক সেবামূলক কর্মকান্ডে নিজেদের জড়িত রেখেছে। ভবিষ্যতে আরো বড় আকারে সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকান্ডে “একতারা” জড়িত হবার আশা রাখে।    

একতারা”র এবারকার এই পরিবেশনার মূল আকর্ষণ বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জীবনীভিত্তিক গীতিনাট্য “মহাজনের নাও”

“একতারা লোকজ উত্‍সব ২০১১” এর মাধ্যমে হাসন-লালন থেকে শুরু করে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম পর্যন্ত বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ও আদী শিল্পকে তুলে ধরা হবে।  

“একতারা”র এবারকার এই পরিবেশনার মূল আকর্ষণ বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জীবনীভিত্তিক গীতিনাট্য “মহাজনের নাও”।

বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম আমাদের শিল্পসংস্কৃতি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। করিমের গানে মুগ্ধ হয়নি, ভাবসাগরে ডুব মারেনি এমন মানুষ নেই বললেই চলে। করিম যেমন প্রতিভার ঝিলিক দেখিয়েছেন তেমনি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মিডিয়াও কার্পণ্য করেনি তাঁর প্রতিভার যোগ্য স্বীকৃতি দিতে।

এ সাধক কবিকে নিয়ে প্রচুর কাজ হয়েছে, নানাজন নানাভাবে তাঁর কাজের মূল্যায়ণ করেছেন। করিমের সৃষ্টিকে মানুষের আরো কাছাকাছি নিয়ে আসার কাজটি করেছে গণমাধ্যম। খ্যাতিমান নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ত শাকুর মজিদ জীবিত করিম এবং লোকান্তরিত করিমকে-দুইভাবে বন্দি করে লিখেছেন “মহাজনের নাও”। নাটকটি বর্তমানে বাংলাদেশের সুবচন নাট্য সংঘ কর্তৃক মঞ্চস্থ হচ্ছে ঢাকার মঞ্চে। শাকুর মজিদ দীর্ঘদিন কাছে থেকে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমকে দেখেছেন এবং এই মহান সাধকের উপর “ভাটির পুরুষ” নামে একটি প্রামান্য চিত্র নির্মাণ করেছেন। করিম তার বিভিন্ন লেখার মধ্যে নিজের দেহকে তুলনা করেছেন মহাজনের কাছ থেকে ধার করা এক নৌকার সাথে। এই রূপককে ভিত্তি করে শাকুর মজিদ শাহ আব্দুল করিমের জীবনীকে তুলে ধরেছেন “মহাজনের নাও” গীতল নাটকে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে “একতারা”র শিল্পী ও কলাকুশলীবৃন্দ গত কয়েক মাস যাবত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই লোকজ উত্‍সব ও তার প্রধান আকর্ষণ শাহ আব্দুল করিমের জীবনী ভিত্তিক গীতি নাট্য “মহাজনের নাও” কে ওয়াশিংটনবাসী প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে উপহার দেয়ার জন্যে। একতারার কলাকুশলী ও অভিনয়শিল্পীরা সবাই অপেশাদার অভিনেতা এবং অভিনেত্রী। শুধুমাত্র বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকে এই প্রবাসে শত রকম ব্যস্ততার মাঝেও তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।  

নাটকের দৃশ্য 

মন্তব্য
Loading...