বুয়েটকাল – তাহজিবা আদৃতা

স্থপতি ,নাট্যকার শাকুর মজিদের লেখা “বুয়েটকাল” আত্নজীবনী ঘরানার বই। লেখক তাঁর বুয়েট জীবনের টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলো অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় এক মলাটে এনে বন্দী করেছেন। আমার এক বুয়েটিয়ান বন্ধু একবার বলেছিল বুয়েট নাকি “land of living” বইটি পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল লেখকের জন্যেও বুয়েটে land of living ই ছিলো। জীবন কে নতুন ভাবে চেনা শুরু করেছিলেন।ক্যাডেটের আধাশৃঙ্খলময় জীবনের পর বুয়েট জীবন লেখকের জন্য উন্মুক্ত আকাশ।যার মায়ায় পরে আর্কিটেকচার ডিপার্টমেন্টে কাটিয়েছেন জীবনের ৭টি বছর।


বইটি বুয়েট কেন্দ্রিক আবার বুয়েট কেন্দ্রিক না, এখানে যে শুধু লেখকের বুয়েট জীবন ফুটে উঠেছে তাই নয় আসো এসেছে ঢাকায় এসে ঢাকার জীবনের সাথে খাপ খাওয়ানোর চিত্র।উঠে এসেছে ৯০ দশকের ঢাকা ও উত্তাল ছাত্ররাজনীতির গল্প।সেইসময়ের ছাত্ররাজনীতি আর বর্তমান সময়ের ছাত্ররাজনীতির যে কি বিশাল তফাৎ তা বইটিতে প্রচ্ছন্নভাবেই ফুটে উঠেছে।লেখক তাঁর লেখনীর মাধ্যমে দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের যাপিত জীবনের গল্পই করেননি সাথে পাঠককে নব্বই দশকের ঢাকা শহরেও ঘুরিয়ে আনতে পুরোপুরি সক্ষম হয়েছেন। বুয়েট জীবনের বাইরে নিজের ব্যক্তিজীবনের কিছু ঘটনাও বইটিতে উল্লেখ আছে।
বইটির যে বিষয়টি আরো ভালো লেগেছে সেটি হচ্ছে ছবির ব্যবহার।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ক্লাসের দিন তোলা ছবি থেকে বিভিন্নসময়ে নানা ধরনের ঘটনা,মিছিল মিটিং ছবি লেখার সাথে সাথে সংযুক্ত করা আছে। অধিকাংশ ছবিই লেখকের নিজের তোলা আবার কিছু তিনি সংগ্রহ করেছেন।এই থেকে বোঝা যায় লেখকের ফটোগ্রাফির প্রতিও আগ্রহ ছিলো।তারও কিছু উল্লেখ পাওয়া যায় বইটি তে।
যারা বুয়েটে পড়েছেন তাদের নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে বইটি,অনেক কিছুই তারা মেলাতে পারবেন।কিন্তু যারা বুয়েটে পড়েননি,কিন্তু আত্নজৈবনিক বই পড়তে ভালো লাগে বা ৯০ দশকের ঢাকা,ছাত্ররাজনীতির প্রতি আগ্রহ আছে তাদেরও বইটি আশাকরি ভালো লাগবে।
১৬০ পেইজের ছিমছাম বইটি আসলেই সুখপাঠ্য।

মন্তব্য
Loading...