কবির ছবি, ১৯৯২

কবির ছবি
শ্যামলির বাড়িতে আমাকে বিদায় দিতে দোতলা থেকে নেমে আসছিলেন কবি

কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিনে তাঁর সঙ্গে তোলা নানা লোকের ছবি দেখে কষ্ট হচ্ছে । কবির সঙ্গে আমার বেশ যোগাযোগ ছিলো । কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার কোন ছবি নাই ।

কবির শুক্রাবাদ (তল্লা বাগ) এর বাসায় আমি প্রথম যাই ১৯৮৮ সালে তাঁর কাছ থেকে কবিতা আনতে । নগদ ২০০ টাকা দিয়ে কবিতা এনেছিলাম একটা পাক্ষিকের জন্য । এরপর আমার এক কবি বন্ধু ( দিনার হোসেন) এর কবিতার বইএর ভুমিকা লিখিয়েছিলাম তাঁকে দিয়ে ১৯৯০ সালে । আমার অনুরোধ তিনি রেখেছিলেন । ১৯৯২ সালে একবার তাঁর শ্যামলির বাসায় যাই। আমি তখন বাংলাবাজার পত্রিকার স্টাফ রাইটার, কিন্তু মাঝে মাঝে আমাকে ছবি তোলার জন্যও পাঠানো হতো । কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিনে তাঁর উপর একটা লেখার সাথে নতুন ছবির প্রয়োজন হল রিটন ভাইর । হিফযুর ভাই আমাকে পাঠালেন অফিসের ফ্রী ফিল্ম দিয়ে। আমি অনেকক্ষন থেকে অনেক ভাবে তাঁর অনেকগুলো ছবি তুললাম । কাজ শেষে ব্যাগ গুছিয়ে আমি যখন নেমে আসছি, পেছনে চেয়ে দেখি আমাকে বিদায় দিতে কবি দোতালা থেকে নামছেন ।

বিকেলের হেলানো আলো দরোজা ফুড়ে তাঁর মুখের উপর পড়েছে আর তাঁর ছায়া গিয়ে পড়লো সিঁড়ির ল্যান্ডিং-এর দেয়ালে । আমি কবিকে আটকাই । ব্যাগ খুলে ক্যামেরা বের করি এবং আবার ছবি তুলি । একটাই ফ্রেম, একটাই শট। তখন মনে হলো, এ আলোয় একটা পোর্টেটও তোলা যায় । শামসুর রাহমান খুবই ক্যামেরা ফ্রেন্ডলি । তাঁকে দিয়ে পোজ দেয়ানোও যেতো । আমি তাঁর আরেকটা শট নেই ।

অফিসে ফিরে এসে পাভেল ভাইকে ফিল্ম বুঝিয়ে দিলাম। তিনি প্রিন্ট করে বের করলেন ২টা ছবি । তাঁর একটি সর্বশেষ তোলা পর্ট্রেট । আমার ইচ্ছা ছিলো ছায়া পড়া ছবিটা যেনো ছাপা হয়, কিন্তু ওটা প্রিন্টই করা হলো না। আমাকে যুক্তি দেখানো হলো, নিউজ প্রিন্টের কাগজে ওটা কিছুই আসবে না । আমি বুঝ মেনে নিলাম । অনেকদিন পর সাদাকালো নিগেটিভগুলো ডিজিটাইজড করার ফলে এ ছবিটা আবার দেখি । আজ কবির জন্মদিনে সেদিন ছাপা হওয়া আর না হওয়া দুটো ছবিই দিলাম ।

(পুনশ্চ: ১৯৯৮ সালে “ফেস অফ বেঙ্গল” নামে আমার প্রথম একক যে আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়েছিলো, তাঁর উদ্বোধন করেছিলেন কবি শামসুর রাহমান, সে প্রদর্শনীতে শামসুর রাহমান এবং তাঁর মার একটা যুগ্ন ছবিও ছিলো)

Leave a Comment